- ১২ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পাকিস্তানের করাচিতে গ্যাস সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে চরমভাবে প্রভাবিত করছে। সীমিত সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ থাকায় রান্না এখন আর স্বাভাবিক কাজ নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ এক ধরনের দৌড়ের মতো পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে।
শহরের ৬০ বছর বয়সী গৃহিণী ফারহাত কুরেশির মতো অনেকেই এখন দিনের শুরু থেকেই হিসাব করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতটা রান্না শেষ করা সম্ভব হবে। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় অল্প সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া গেলেও সেই সময় মিস হলে রান্না বন্ধ রাখতে হচ্ছে, খাবার গরম করে খেতে হচ্ছে এবং দৈনন্দিন পরিকল্পনাও বারবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
ফারহাত কুরেশি বলেন, “আমার পুরো সকাল এখন গ্যাসের ওপর নির্ভর করে। আগে এমন পরিস্থিতি কখনও দেখিনি।”
জানা গেছে, পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। দেশটি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল হলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, করাচির অনেক এলাকায় দিনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাপ কম থাকায় রান্না করতে আরও বেশি সময় লাগে, ফলে বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য সময় আরও কমে যাচ্ছে।
এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে গৃহস্থালি নারীদের ওপর। রান্নার সময় গ্যাস না থাকায় অনেককে ভোরে উঠে দ্রুত রান্না শেষ করতে হচ্ছে, আবার অনেকে রাতের খাবারও নির্ধারিত সময়ের আগেই তৈরি করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
২৪ বছর বয়সী শিক্ষিকা লায়বা জাহিদ জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের পরিবারের খাবারের সময়সূচি পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “রাত ৮টার আগেই রান্না শেষ করতে হয়, না হলে খাবার তৈরি করা কঠিন হয়ে যায়।”
শুধু ঘরোয়া জীবন নয়, ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপরও এই সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে। ঘরে খাবার তৈরি করে বিক্রি করা অনেক উদ্যোক্তা জানান, গ্যাস না থাকায় বা এলপিজি ব্যবহার করতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্ডার বাতিল করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে গ্যাস সংকট যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
করাচির বাসিন্দাদের ভাষায়, এখন জীবন আর আগের মতো স্বাভাবিক নেই—প্রতিটি দিনই গ্যাসের সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এক নিরন্তর সংগ্রাম।