- ১৪ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) “গোপন সফর” করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এমন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউএই।
বুধবার রাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (WAM)-এর বরাতে এক বিবৃতিতে দেশটি জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোনো গোপন বা অনানুষ্ঠানিক ভিত্তিতে নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত “আব্রাহাম চুক্তি”-এর আওতায় প্রকাশ্য ও স্বীকৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গোপন সফর বা গোপন বৈঠকের যেকোনো দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, যদি না তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছিল যে, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত চলাকালীন সময়ে নেতানিয়াহু ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে একটি “গোপন বৈঠক” করেছেন। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইউএই-তে মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে মে মাসের শুরুতে ইরানের হামলার পর বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতা ইউএই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই সময় নেতানিয়াহুও সংহতি প্রকাশ করেছিলেন বলে রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানানো হয়।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। তবে ওই চুক্তি ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত ও ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল-উপসাগরীয় সম্পর্ক একদিকে যেমন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হচ্ছে।