- ১৬ মে, ২০২৬
গাজা সিটিতে ইসরায়েলের পৃথক দুটি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র। শুক্রবারের এই হামলায় একটি আবাসিক ভবন ও একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করা হয়।
চিকিৎসা সূত্র ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রিমাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে একটি বেসামরিক গাড়িতে চালানো পৃথক হামলায় আরও তিনজন প্রাণ হারান।
আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি ইব্রাহিম আল খলিলি জানান, হামলায় অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং আঘাতপ্রাপ্ত ভবনে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার শিকার আবাসিক ভবনে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই হামলা চালানো হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
হামাসের সামরিক শাখার শীর্ষ নেতা ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদের (Izz al-Din al-Haddad) লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে তাকে ৭ অক্টোবরের হামলার “মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েল নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। হামাসও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি এবং স্বাধীনভাবে কোনো পক্ষই ইসরায়েলের দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন একটি গাড়িতে ছিলেন এবং বাকি চারজন ভবনের ভেতরে হামলায় প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থল ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, পূর্ব গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত অনেক মানুষ ওই এলাকায় আশ্রয় নেওয়ায় জনসংখ্যার চাপ বেশি ছিল।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের কমান্ডারকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যিনি তাদের মতে ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলা, অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি গাজায় নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন বলেও দাবি করা হয়।
গাজায় চলমান সংঘাত ও হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বলে মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।