- ১৬ মে, ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৯ থেকে ২০ মে চীন সফর করবেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কৌশলগত সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে “সমন্বিত অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা” আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গেও পুতিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, এই সফর ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত “সুপ্রতিবেশীতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তির” ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।
পুতিনের এই সফরের ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীন সফর শেষে দেশটি ত্যাগ করেছেন। ওই সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু বাণিজ্যিক বিষয়ে অগ্রগতি হলেও তাইওয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া–চীন সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গভীর হয়েছে। যদিও দুই দেশ আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়, তবুও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে পুতিন ও শি জিনপিং “সীমাহীন অংশীদারত্ব” ঘোষণা করেছিলেন, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর চীন রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং দুই দেশের লেনদেন এখন মূলত রুবল ও ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে।
চীন অবশ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে রাশিয়ার সামরিক শিল্পে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে “বৈষম্যমূলক” বলে অভিহিত করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা বলছে।
নতুন এই সফরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মস্কো–বেইজিং জোটের অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।