- ১৫ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি ভারতের এমন আচরণকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও তথ্য সম্পাদক আবদুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিন বাংলাদেশি নিহত হলেও এ বিষয়ে এখনো ভারতের হাইকমিশনারকে তলব না করায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খেলাফত মজলিস অবিলম্বে কূটনৈতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে দলটি ফেনী, সিলেট ও রংপুরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন ও সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে পদ্মা ও তিস্তা নদীকেন্দ্রিক ব্যারাজ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করা হয়।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে বৈঠকে নেতারা বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকেও জনগণের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে জুলাইয়ের গণহত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করার আহ্বানও জানানো হয়।
দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।