- ০৪ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইয়েমেনের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরব বা ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বকে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা বা লঙ্ঘনের চেষ্টা হলে “অভূতপূর্ব দৃঢ়তা ও শক্তি দিয়ে” তার জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সম্প্রতি হুথি গোষ্ঠীর দেওয়া হুমকি মূলত ইয়েমেনের জনগণের ওপর তাদের কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি চেষ্টা। তার দাবি, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট আড়াল করতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হুথিদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামরিক অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং তারা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে।
এর আগে শুক্রবার হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় “ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলার” হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি যুদ্ধবিমানকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি ইরানি বেসামরিক বিমান অবতরণে বাধা দিতে ব্যর্থ করেছে।
সারি জানান, ওই বিমানে ২০০ জনেরও বেশি রোগী এবং হুথি প্রতিনিধিদল ছিল, যারা ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। এটি প্রায় এক দশক পর প্রথমবারের মতো সানায় একটি প্রকাশ্য ইরানি বেসামরিক উড়োজাহাজ অবতরণ বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জরুরি বৈঠকে বসে ইরানি বিমান অবতরণকে “ইয়েমেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন” বলে নিন্দা জানায়। তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, হুথিদের সামরিক তৎপরতার কারণে ইয়েমেনের বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিমানবন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌপথে হামলার অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
২০১৫ সালে হুথিরা সানায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে জাতিসংঘও সতর্ক করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হুমকি-পাল্টা হুমকি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা ইয়েমেন সংকটকে আরও বিস্তৃত ও জটিল পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।