Friday, July 3, 2026

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও উত্তপ্ত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ


ছবিঃ ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবনের পাশ দিয়ে সাইকেলসহ এক নারী হেঁটে যাচ্ছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /তেতিয়ানা জাফারোভা/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। এর আগের দিন রাজধানী কিয়েভে বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৩০ জন। এ ঘটনার পর শুক্রবার কিয়েভে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে দুই নারী, এক বৃদ্ধ এবং এক শিশুর মৃত্যু হয়। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

একই সময়ে মধ্য ইউক্রেনের শিল্পনগরী ক্রিভি রিহে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন আহত হন। হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান, গ্যারেজ এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মস্থান ক্রিভি রিহ যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে রয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, ইউক্রেনের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়ানো হবে এবং তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, সর্বশেষ হামলায় রাশিয়া প্রায় পাঁচ শতাধিক ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে। সামরিক বাহিনী বলছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই ব্যাপক আক্রমণের প্রস্তুতি রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিচ্ছিল।

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাল্টা ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বেলগোরোদ, ব্রিয়ানস্ক ও স্মোলেনস্ক অঞ্চলে শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এক রাতে ইউক্রেনের শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের একটি গ্রাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা প্রমাণ করছে যে যুদ্ধ কেবল ফ্রন্টলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই; উভয় দেশই এখন প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন