Thursday, July 2, 2026

ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের বিলিয়ন ইউরোর চুক্তি ঘিরে বিতর্ক


ছবিঃ উপাত্ত-সমষ্টিতে পর্যালোচিত সময়কালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /আমির কোহেন/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও পশ্চিম তীরে দখলদারিত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মধ্যেও ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক চুক্তি অব্যাহত রয়েছে। এক গবেষণা ডাটাসেট ও আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে প্রায় ১৯৪টি চুক্তি করেছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এসব চুক্তির বড় অংশই প্রতিরক্ষা, নজরদারি প্রযুক্তি, উন্নত ইলেকট্রনিকস এবং বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট।

ডাটাসেটে দেখা যায়, স্পেন যে দেশটি ইসরায়েলের নীতির অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত সেই দেশও একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্তত ১৪টি চুক্তি করেছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২২৭ মিলিয়ন ইউরো। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য আকাশযুদ্ধ প্রযুক্তি সংক্রান্ত বড় একটি চুক্তি। পাশাপাশি স্পেনের পুলিশ বাহিনীর জন্য বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও কেনা হয়েছে ইসরায়েলি কোম্পানি থেকে।

গবেষণা তথ্য বলছে, ইউরোপে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি চুক্তির সংখ্যা ২০২৩ সালের পর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে সময় গাজায় সামরিক অভিযান আরও তীব্র হয়। ওই সময়ের পরবর্তী ২১ মাসে চুক্তির পরিমাণ ও আর্থিক মূল্য আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এর একাধিক নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আদালত ২০২৪ সালে এক পর্যবেক্ষণে বলেছিল, গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের “বাস্তব ও আসন্ন ঝুঁকি” রয়েছে এবং রাষ্ট্রগুলোকে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে যা অবৈধ দখলদারিত্বকে সহায়তা করে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। মধ্য ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক অধ্যাপক আল জাজিরাকে বলেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এই নীতিগত অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।

ডাটাসেটে আরও দেখা যায়, জার্মানি, ইতালি, সুইডেন ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে প্রযুক্তি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষা খাতে চুক্তি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব চুক্তির আর্থিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি বা অস্বাভাবিকভাবে কম দেখানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অবস্থানও বিভক্ত। কিছু দেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার পক্ষে থাকলেও জার্মানি ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ চুক্তি স্থগিতের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রাজনৈতিক নিন্দা ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বড় ধরনের ফাঁক রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় দেশগুলোর এই বাণিজ্যিক নির্ভরতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক কূটনৈতিক নীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন