- ০১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
বিশ্বের মহাসাগরগুলো চলতি বছরের জুন মাসে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ সময় পার করেছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস। নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে সমুদ্রের তাপমাত্রা আরও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের জুনে বৈশ্বিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা জুন মাসের আগের সব রেকর্ড—বিশেষ করে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের রেকর্ড—কে ছাড়িয়ে গেছে।
কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাস জুড়ে বিশ্বের অধিকাংশ মহাসাগরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করেছে। এ সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ (Marine Heatwaves) দেখা গেছে, যা ক্রমেই আরও বিস্তৃত হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, বিশ্ব মহাসাগরের প্রায় ৮২ শতাংশ অঞ্চল এই তাপপ্রবাহের প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছে।
সংস্থার প্রধান সমুদ্রবিদ সাইমন ভ্যান গেনিপ বলেন, ভূমধ্যসাগর, উত্তর আটলান্টিকের মধ্যাঞ্চল এবং নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা পরিস্থিতি “সমুদ্রের ওপর ধারাবাহিক তাপজনিত চাপের একটি স্পষ্ট চিত্র” তুলে ধরছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি ২০২৬ সালের শেষভাগ ও পরবর্তী বছরেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়াতে পারে। এল নিনো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি তৈরি করে, যা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরণে বড় পরিবর্তন আনে—ফলে কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা, আবার কোথাও খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি একটি “অজানা ও অনিশ্চিত পর্যায়ের” ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর মতে, সমুদ্রের এই উচ্চ তাপমাত্রা ও আসন্ন এল নিনো একসঙ্গে মিলিয়ে আগামী মাসগুলোতে নতুন নতুন জলবায়ু রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাসাগর পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ অতিরিক্ত তাপ এটি শোষণ করে নেয়। কিন্তু অতিরিক্ত উষ্ণতা এই ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ সমুদ্র বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য—বিশেষ করে প্রবাল প্রাচীর—গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বিশ্বের মহাসাগরগুলো এখন “গভীর সংকটের” মধ্যে রয়েছে, যেখানে উষ্ণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় আরও চরম ও অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।