- ০১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা UNRWA তীব্র অর্থ সংকটে পড়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি ১০ কোটি ডলারের ঘাটতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
মঙ্গলবার এক দাতা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, তহবিল সংকট ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আরোপিত নানা বিধিনিষেধের কারণে সংস্থাটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি শরণার্থীর জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গুতেরেস বলেন, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি “অত্যন্ত ভয়াবহ” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর ও লেবাননে সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের দুর্দশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার ভাষায়, UNRWA বর্তমানে এমন এক অবস্থায় আছে যেখানে পর্যাপ্ত অর্থ না পেলে তাদের সেবা কার্যক্রম বড় ধরনের সংকোচনের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সংস্থাটির ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, অর্থ সংকট এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে UNRWA-এর কাজ “প্রায় অচলাবস্থার” দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে মানবিক সেবার সক্ষমতা ভেঙে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত UNRWA বর্তমানে গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ও আশ্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এক সময় সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একই সময় ইসরায়েল সংস্থাটির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, যা নিয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদন্তে সীমিত কিছু সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
গুতেরেস বলেন, UNRWA-এর বর্তমান সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক চাপ ও ভুল তথ্য প্রচারের সঙ্গেও যুক্ত, যা সংস্থাটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
এদিকে তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ UNRWA-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, সংস্থাটির ওপর চাপ ও হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা।