- ৩০ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ১ হাজার ৩০৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭৭ জন।
সোমবার রাতে প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, সংক্রমণের অধিকাংশ ঘটনা ইতুরি, নর্থ কিভু ও সাউথ কিভু প্রদেশে শনাক্ত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভাইরাসটি এখন চতুর্থ প্রদেশ হাউট-উয়েলেতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল রিসার্চের (আইএনআরবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া থেকে হাউট-উয়েলেতে ভ্রমণ করা এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পর্যবেক্ষণে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
হাউট-উয়েলেতে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ফলে ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাসকারী বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন ইবোলার ঝুঁকির আওতায় চলে এসেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মে মাসে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব দেশটির ১৭তম ইবোলা সংক্রমণ। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে সংঘাতপ্রবণ ইতুরি প্রদেশ, যা বর্তমানে এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতিও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সরাসরি স্পর্শ করেন, যা ইবোলা সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিরাপদ দাফন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করলেও স্থানীয়দের অনাস্থা এবং নিরাপত্তা সংকটের কারণে সেই কার্যক্রম বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইতুরি প্রদেশের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম, ওষুধ, দ্রুত পরীক্ষার কিট এবং মরদেহ ব্যবস্থাপনার সামগ্রীর তীব্র সংকট রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে, যা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করেছে, আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার বলছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রাখা, নিরাপদ দাফন নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।