- ২৭ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভেনেজুয়েলায় দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীরা এখন সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন। সরকারি ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুইটি ভূমিকম্প দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়েরা এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ভূমিকম্পের তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে চলছে প্রাণান্তকর চেষ্টা।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার রাতে লা গুয়েরা অঞ্চলে প্রবেশ সীমিত করে দেয়, কারণ যানজট ও বিশৃঙ্খলা উদ্ধার তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করছিল। তবে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতির নিয়ম চালু করা হলেও কারা প্রবেশ করতে পারবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
সরকারি উদ্ধারকর্মীর ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষই স্বেচ্ছায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে নেমে পড়েছে। খালি হাতে ইট-পাথর সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করার চেষ্টা করছেন তারা। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, জীবিত উদ্ধারের “গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা” প্রায় শেষের পথে।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, “প্রতিটি উদ্ধার হওয়া জীবন একটি অলৌকিক ঘটনা। আমরা এই বিপর্যয়ের কোনো তথ্য গোপন করব না।”
সরকার লা গুয়েরা এলাকায় খাদ্য ও পানীয় জল বিতরণ করছে এবং বলছে, এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জীবিত উদ্ধার অভিযানে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক উদ্ধারকর্মী কাজ করছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি তৎপরতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত উদ্ধার দল পৌঁছায়নি বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এলাকা এখন কার্যত সামরিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আরও সহায়তা আসছে। তিনি এই সময়কে “জীবন রক্ষার সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেকের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে নিখোঁজ তালিকায় পুনরাবৃত্তিও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মতে, এই দুর্যোগে প্রায় ৬.৭৬ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে শুধু রাজধানী কারাকাসেই রয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুইটি স্বল্প গভীরতার শক্তিশালী ভূমিকম্প দ্রুত পরপর আঘাত করায় ধ্বংসের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়েছে। বহু মানুষ এখনো আতঙ্কে তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
রেড ক্রসের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং উদ্ধার কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হলে প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবন-মৃত্যুর লড়াই অব্যাহত রয়েছে—আর সময় ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে।