- ২৭ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পশ্চিম ইউরোপজুড়ে রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড এই গরমে এখন পর্যন্ত বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে আরও পূর্বদিকে জার্মানি ও পোল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।
জার্মানির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় সারব্রুকেনের কাছে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পৌঁছায়, যা এখন পর্যন্ত চলতি গ্রীষ্মে দেশটির সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে এ তথ্য এখনও চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডেও জুন মাসে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রবীণ ও তরুণ—দুই বয়সী মানুষের মধ্যেই হিটস্ট্রোক ও তাপজনিত জটিলতায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তীব্র এই গরমে ইউরোপজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দৈনন্দিন জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। রেল চলাচলে ধীরগতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ এবং বহিরাঙ্গন কর্মসূচি বাতিল বা সীমিত করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে।
জার্মান আবহাওয়াবিদ কারস্টেন ব্রান্ড্ট জানিয়েছেন, “সপ্তাহান্তে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হবে এবং কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিরও বেশি অনুভূত হতে পারে।”
পরিস্থিতি বিবেচনায় জার্মানির জাতীয় রেল অপারেটর ডয়চে বাহন যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ দূরত্বের টিকিট বিনামূল্যে বাতিলের সুযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি রেল অবকাঠামো অতিরিক্ত তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় সিগন্যাল, ট্র্যাক ও ওভারহেড লাইনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ফ্রান্সে গরমজনিত চাপ সামলাতে হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কৃষি উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডে এবং যুক্তরাজ্যেও জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে “ওমেগা ব্লক” নামের এক আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে, যেখানে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় একই অঞ্চলে আটকে থাকে। এর ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের পর ধীরে ধীরে এই তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে এবং মধ্য ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। তবে এর মধ্যেই বজ্রঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন তীব্র তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না থাকলে এই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা প্রায় অসম্ভব ছিল।
ইউরোপজুড়ে চলমান এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।