- ৩০ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
একটি ম্যাচেও হারেনি ইরান। তবু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার শক্তিশালী দলটিকে। তিনটি ম্যাচেই ড্র করে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার আশা জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু অন্য গ্রুপের একটি নাটকীয় ফল সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় গোল পার্থক্য ও পয়েন্টের হিসাব বদলে যায়। ওই ম্যাচে যেকোনো একটি দল জয় পেলে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হতে পারত ইরানের। কিন্তু ইনজুরি সময়ে পরপর দুটি গোল হয়ে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় ইরানকে।
এই ফলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ফুটবল অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কিছু সমর্থক ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ ম্যাচটি নিয়ে ফিক্সিংয়ের অভিযোগও উত্থাপন করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি।
এরই মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। ইরানের বিদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে ইরানি দলের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে এ বিষয়েও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি।
তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক ও কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের যাত্রাপথও ছিল ব্যাপক আলোচনার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দলটির তিনটি ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হলেও তাদের বেস ক্যাম্প ছিল মেক্সিকোতে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষ করেই আবার মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হয়েছে ইরানি দলকে।
এই যাতায়াত খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও বিশ্রামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন দলের কোচ আমির ঘালেনোই। তার দাবি, এমন পরিস্থিতিতে পরিকল্পনামাফিক অনুশীলন করা সম্ভব হয়নি এবং দলের প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে।
দলের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই অতিরিক্ত ভ্রমণ ও নানা প্রশাসনিক চাপ তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে খেলতে দেয়নি। তার মতে, এসব বিষয় বিশ্বকাপের মতো আসরের আনন্দ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
তিন ম্যাচে তিনটি ড্র করেও নকআউটে জায়গা না পাওয়ায় ইরানের বিদায় এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচের ফল, ভ্রমণসূচি এবং রাজনৈতিক মন্তব্য সব মিলিয়ে দলটির বিদায় ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি।