- ০১ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে কোচিং সেন্টার পরিচালনাকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতে হলে সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মূল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই প্রথম লক্ষ্য হবে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, যাতে আলাদা কোচিংয়ের প্রয়োজন কমে আসে।
তিনি জানান, শিক্ষকদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সহায়ক পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও বাইরের কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কোচিং সেন্টারের নিবন্ধন ও তদারকির বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই কোনো ব্যক্তি ইচ্ছামতো অনিরাপদ বা অনুপযুক্ত স্থানে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতে পারবেন না। ফায়ার সেফটি, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেই কোচিং পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং সেশনজট এড়াতে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিতে সমন্বয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি অনেক আগেই প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। ভবিষ্যতেও পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও এমন পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।