- ০২ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের ব্যাপক অভিযান চলেছে। বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৯০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভগুলো আয়োজন করে ২০টিরও বেশি নাগরিক সমাজ সংগঠনের একটি জোট, যার মধ্যে “মার্চ অ্যান্ড মার্চ” আন্দোলনও রয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার একটি তথাকথিত ‘শেষ সময়সীমা’কে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি ডাকা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ১২০টি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ১০৮টি শান্তিপূর্ণ থাকলেও ১২টি স্থানে সহিংসতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার ঘটনায় দোকান লুটপাট ও সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
পুলিশের ডেপুটি ন্যাশনাল কমিশনার তেবেলো মোসিকিলি জানান, বিভিন্ন অভিযোগে এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা বিঘ্ন, লুটপাট এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ওয়েস্টার্ন কেপে সবচেয়ে বেশি ২১৫ জন এবং ইস্টার্ন কেপে ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। তিনি অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ স্বীকার করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করেন।
রামাফোসা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ভাঙচুর বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই।
তবে সতর্কতা সত্ত্বেও কিছু এলাকায় সহিংসতা থামেনি। জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা টাউনশিপে লুটপাটের সময় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একই শহরের হিলব্রো এলাকায় সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়, যাদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ডারবানে হাজারো বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে “আবাহামে!” অর্থাৎ “তাদের চলে যেতে হবে” স্লোগান দেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে এই ধরনের বিক্ষোভ মূলত দেশের উচ্চ বেকারত্ব, দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও জটিল আশ্রয় প্রক্রিয়ার মতো গভীর সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশজুড়ে উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।