Thursday, July 2, 2026

বিদেশে ‘জাতিগত ঐক্যবিরোধী’ কর্মকাণ্ডে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে চীন


ছবিঃ ১২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে চীনের বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) সমাপনী অধিবেশন শেষে জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত প্রতিনিধিরা নথিপত্র হাতে বেরিয়ে আসছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /টিংশু ওয়াং/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

চীন বলেছে, দেশের “জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতিকে” ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশি ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার এখন তাদের রয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ-পরিসরের আইন প্রয়োগ বা ‘এক্সট্রাটেরিটোরিয়াল জুরিসডিকশন’ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

গত মার্চে চীনের জাতীয় গণ কংগ্রেসে পাস হওয়া “জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি প্রচার আইন” বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

আইনের ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বিশেষভাবে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, চীনের বাইরে অবস্থান করা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে যা “জাতিগত ঐক্য ক্ষুণ্ন করে” বা বিভাজন সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এই ধারা ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সংস্থাটির মতে, “জাতিগত ঐক্য” শব্দটি বাস্তবে রাজনৈতিক অনুগত্য নিশ্চিত করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘের কিছু বিশেষজ্ঞও এই আইন নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, তিব্বত ও শিনজিয়াংয়ের মতো অঞ্চলে এটি জোরপূর্বক সাংস্কৃতিক একীকরণ বা অ্যাসিমিলেশনকে বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা জাতিগত সম্প্রীতি বৃদ্ধির পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

চীনের পক্ষ থেকে অবশ্য এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরিষদ তথ্য অফিসের মুখপাত্র ঝৌ জিয়ানশে বলেন, এই আইনের ধারা “বৈধ, প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর” এবং পশ্চিমা গণমাধ্যম এটিকে ভুলভাবে “দীর্ঘ-হাতের বিচারিক ক্ষমতা” হিসেবে উপস্থাপন করছে।

আইনটি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ করে তাইওয়ানে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে নাগরিকদের চীন ভ্রমণ বা সেখানে অবস্থানকালে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিদেশে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং ২০১৬ সালে রাজনৈতিক যোগাযোগ বন্ধের পর থেকে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগে বেইজিং “কট্টর বিচ্ছিন্নতাবাদী”দের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধানও ঘোষণা করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আইন চীনের আইনি ক্ষমতাকে দেশের সীমানার বাইরে সম্প্রসারণের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন