Thursday, July 2, 2026

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে নিহত অন্তত ১৭


ছবিঃ বৃহস্পতিবার ভোরে কিয়েভে রাশিয়ার বিমান হামলার সময় একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানার মুহূর্তে বিস্ফোরিত হচ্ছে; একই সময়ে ইউক্রেনীয় দমকলকর্মীরা আরেকটি ভবনে লাগা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন, যা এর আগে আরেকটি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোররাতে এ হামলা চালানো হয়, যা নিয়ে শহরজুড়ে ব্যাপক ধ্বংস ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে মস্কো বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী লক্ষ্য করে এই সমন্বিত আঘাত আসে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ছয় তলা পর্যন্ত অংশ ধসে পড়ে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর ত্কাচেঙ্কো বলেন, অন্তত ৩৩টি স্থানে হামলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাতভর রাশিয়া ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৭৬টি ড্রোন প্রতিহত করা গেলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন অন্তত ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন, ধ্বংসস্তূপ এবং ভূগর্ভস্থ স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষ। অনেকেই রাতে ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এই হামলা ছিল ইউক্রেনের অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে “বড় পরিসরের প্রতিশোধমূলক অভিযান”। তারা বলেছে, কিয়েভসহ একাধিক অঞ্চলে সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি কেন্দ্র লক্ষ্য করা হয়েছে।

এদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হামলা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইচ্ছাই দেখাচ্ছে না এবং ইউক্রেনসহ ইউরোপের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। তিনি ন্যাটো সম্মেলনের আগে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার আহ্বান জানান।

এই হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের পাশাপাশি রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলেও ড্রোন হামলা ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের দীর্ঘায়িত এই পর্যায়ে কিয়েভে এমন সমন্বিত হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন