- ০২ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ চলছে, ঠিক সেই সময় গাজার ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসভিত্তিক ক্লাব খাদামাত খান ইউনিসের ৩২ বছর বয়সী গোলরক্ষক সেলিম খাদের আল-আশকার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এবং ক্রীড়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আল-কারারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ফুটবলে পরিচিত মুখ হিসেবে খেলেছেন আল-আশকার। খাদামাত খান ইউনিসের পাশাপাশি তিনি আল-আকসা ও আল-মুসাদ্দার ক্লাবেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
স্থানীয় ক্রীড়া মহলে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সতীর্থদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন খেলোয়াড়।
ব্যক্তিগত জীবনে মাত্র পাঁচ মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আল-আশকার। পরিবার জানিয়েছে, তার স্ত্রী বর্তমানে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। সাত ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার মৃত্যু পরিবারে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
ফিলিস্তিনি ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্রীড়াঙ্গনের অন্তত ১ হাজার ৯ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫৬৭ জন ফুটবলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংঘাত কেবল মানবিক সংকটই নয়, বরং গাজার ক্রীড়া ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। মাঠের আনন্দ ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ হারিয়ে অনেক খেলোয়াড় ও ক্লাব এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
আল-আশকারের মৃত্যু স্থানীয় ফুটবল অঙ্গনে শুধু একটি শোকাবহ ঘটনা নয়, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।