- ০৩ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হচ্ছে ৩ জুলাই। ইরান ও ইরাকজুড়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চে নির্ধারিত দাফন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিন রাজধানী তেহরানে আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জনসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। বিশাল এই ধর্মীয় কমপ্লেক্সে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
৬ ও ৭ জুলাই তেহরানের বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে, যা শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় এখানেই ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন আলী খামেনি।
৮ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার পর নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে গণশোকযাত্রা। শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম আলীর মাজার এবং ইমাম হুসাইন ও হযরত আব্বাসের পবিত্র রওজা ঘিরে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সাত দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। সেদিন মাশহাদের ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হবে। শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এ স্থানে সমাহিত হওয়াকে বিশেষ সম্মানের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশটির রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
এবারের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে প্রথম বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুষ্ঠান শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতারও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।