- ০৪ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে একযোগে অন্তত পাঁচটি স্থানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। শনিবার ভোরে হওয়া এই হামলাগুলোতে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়, যা কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম বড় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, হামলাগুলো আগুয়েলহক, আনেফিস, গাও, সেভারে এবং কেনিয়েরোবা এই পাঁচটি এলাকায় সংঘটিত হয়। এর মধ্যে কিছু এলাকায় সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি রাশিয়ান যোদ্ধারাও অবস্থান করছে বলে স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় ভোরের দিকে শুরু হওয়া এসব হামলায় বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলি, বিস্ফোরণ ও রকেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো জানায়, ভোরের আগে থেকেই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় এবং একাধিক স্থানে ভারী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরের কেনিয়েরোবা এলাকার একটি কারাগারেও হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে অবস্থানরত এক বন্দির বরাতে বলা হয়, পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বন্দিশালার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আনেফিস শহরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট (এফএলএ) নামের একটি তুয়ারেগ-নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। সংগঠনটির মুখপাত্র মোহাম্মদ এলমাউলুদ রামাদানে দাবি করেন, তাদের যোদ্ধারা শহরের একাধিক অবস্থানে আক্রমণ চালিয়েছে এবং এখনো সেখানে তীব্র লড়াই চলছে।
তিনি আরও জানান, কিছু অবস্থান তাদের দখলে গেলেও সরকারি বাহিনী প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, শহরের ভেতরে এখনো সংঘর্ষ চলমান।
এদিকে গাও শহরে সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করে গোলাগুলি ও রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরেও একই সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর আকাশে একাধিক উড়োজাহাজ দেখা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো মালির সামরিক সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে আল-কায়েদা ও আইএস-সম্পৃক্ত গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের তৎপরতা দেশটির উত্তরাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষ করে এপ্রিল মাসে রাজধানী বামাকোসহ একাধিক এলাকায় বড় ধরনের হামলার পর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। সর্বশেষ এই সমন্বিত হামলা সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সাহেল অঞ্চলের বিস্তৃত নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে মালির এই নতুন সহিংসতা দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে নতুন করে চাপে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।