- ০৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার সংকট শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ২৪৯টি পদ এখনো শূন্য। পাশাপাশি অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদে কোনো শিক্ষক কর্মরত নেই।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক নেতৃত্বের অভাবও বিদ্যালয় পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৭২৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। তবে এই নিয়োগ সম্পন্ন হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ খালি থেকে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় শিক্ষানীতিতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে গড়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে প্রায় ৩৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে এই অনুপাত আরও বেশি।
জাতীয় সংসদে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকসংকট দূর করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে শূন্য পদ পূরণ হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংকট রয়েছে। সরকারি তিনটি আলিয়া মাদ্রাসায় ১১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া দেশের ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৩৫৪টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৭৭৭টি পদ এখনো খালি রয়েছে। এসব পদও এনটিআরসিএর মাধ্যমে পূরণের প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।