- ০২ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটতে শুরু করেছে। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদগুলোতে নিয়োগ সম্পন্ন হলে সারা দেশে ৩৮ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের নতুন পদ শূন্য হবে। এসব পদেও দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজার ২৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হলে পদোন্নতির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ফলে নতুন করে ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি হবে, যা পূরণে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তবে আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ের পর সেই আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আর কোনো বড় বাধা নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষক সংকট দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পর্যায়ক্রমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষাসেবা নিশ্চিতভাবে পাবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় অনেক সহকারী শিক্ষক কর্মজীবন শেষ করেও পদোন্নতির সুযোগ পাননি। এতে যেমন শিক্ষকরা হতাশ হয়েছেন, তেমনি বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘদিনের একটি জটিলতার অবসান হয়েছে। এখন দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, যা প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন গতি আনবে।
সরকারের এই ঘোষণায় শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা হাজারো চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটাই কমে আসবে।