- ০৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত কোনো রাজনৈতিক জোটের ব্যানারে নয়, বরং নিজস্ব প্রতীকে ও এককভাবে দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সমঝোতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না দলটি।
এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তাদের জন্য কেবল ভোটের লড়াই নয়; এটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সে লক্ষ্যেই ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্তকরণ এবং মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে।
দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এনসিপি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ—সব স্তরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয় বৈঠক হয়নি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও অন্যান্য পদেও ধাপে ধাপে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় জনসংযোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় রয়েছেন।
এনসিপির নেতাদের দাবি, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা অভিজ্ঞ নেতাদেরও দলে যুক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে বিভিন্ন দলের কৌশল ও অবস্থান নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। তার মতে, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র।
অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তারিকুল ইসলাম স্থানীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমমনা শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের আলোচনা থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে। ফলে একক অংশগ্রহণের কৌশল আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।