- ০৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এখনই কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়া হবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয় বাস্তবতা, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় একক প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবে দলটি।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সম্ভাব্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায় থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ ও সাংগঠনিক সক্রিয়তার মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর ঝুঁকি কমাতে ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং জনসমর্থনসম্পন্ন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি থাকলেও আইনি কাঠামো ও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগে কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনা হবে না। নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বর্ষা শেষে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জনসংযোগ, সামাজিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সক্রিয় রয়েছেন। পোস্টার, ব্যানার ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচিত করে তুলছেন।
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি ধরে রেখেছে। এখন সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করলেই দল পুরো শক্তি নিয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক এলাকায় একাধিক হওয়ায় দলীয় সমর্থন ঘোষণার আগে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও সবাই নিজ নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আগাম নির্বাচনি প্রস্তুতিও বিএনপির নজরে রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় করে তুলেছে। ফলে বিএনপিও সাংগঠনিক সমন্বয় ও একক প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রার্থী নির্বাচন এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যই নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।