- ০৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র বলছে, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ—প্রতিটি স্তরের নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়ে রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ঘোষণায় আগামী ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। একই সময়ে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে নির্বাচনের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াত। দলটির নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও সে পথে না গিয়ে প্রশাসনিক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দেশের বড় কয়েকটি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক, জনকল্যাণমূলক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। যদিও এসব প্রার্থীর বিষয়ে দল এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এ ছাড়া দেশের অধিকাংশ পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও সদস্য পদে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জনসম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রার্থী নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়াই সংবিধানের মূল চেতনা। নির্বাচনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত এমন প্রার্থীদের সমর্থন দিতে চায়, যারা সৎ, দক্ষ ও জনকল্যাণে নিবেদিত। দলীয়ভাবে বা পরোক্ষভাবে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বানও জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জামায়াতেরও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন।