- ০২ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশের প্রচলিত অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, অর্থবছরের বর্তমান কাঠামো উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং জবাবদিহির ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মতামত তুলে ধরেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, অর্থবছরের শেষ পর্যায় সাধারণত বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ সময়ের মধ্যে পড়ে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত ব্যয়ের প্রবণতা দেখা যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের মান ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তৈরি করে। তিনি দাবি করেন, অর্থবছর ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর নজরদারি আরও কার্যকর হতে পারে।
অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এসব মূল্যবোধ নিশ্চিত না হলে কেবল বাজেট প্রণয়ন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়।
তিনি সম্পূরক বাজেট পেশের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, অর্থবছরের একেবারে শেষ দিকে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের ফলে সংসদীয় তদারকি ও জনস্বার্থ রক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
কর ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কর আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ করদাতাদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বাজেট প্রণয়ন এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে অধিক স্বচ্ছতা ও জনমুখী নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।