- ২৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ফরিদপুর
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে যাত্রা করেছিলেন একটি বাংলাদেশি পরিবার। কিন্তু সেই ধর্মীয় সফরই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। সৌদি আরবের রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে প্রাইভেট কারে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের এক মা ও তার দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের কর্তা ও তাদের আরেক সন্তান।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার সকালে নিহতদের স্বজনরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্যার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা, তার মেয়ে জারা এবং ছেলে তাসবিক। আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম এবং তাদের বড় ছেলে নাবিল। বর্তমানে তারা সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তিনি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত এবং পরিবার নিয়ে রিয়াদেই স্থায়ীভাবে থাকতেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা একটি প্রাইভেট কারে করে রিয়াদ থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ভারী যানবাহন তাদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তানিয়া তাহমিনা রিনা, তার মেয়ে জারা ও ছেলে তাসবিকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম ও বড় ছেলে নাবিল গাড়ির সামনের আসনে বসা ছিলেন। পেছন দিক থেকে আঘাত লাগায় তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা আশঙ্কামুক্ত।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পুঠিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা একসঙ্গে তিনজনের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিহতদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।