Saturday, July 25, 2026

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার পর কুমিল্লা মহিলা কলেজের সাত শিক্ষকের বদলি


ছবিঃ জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক।  কুমিল্লা

এইচএসসি পরীক্ষার সময় জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাতজন শিক্ষককে একযোগে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিরল এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে কুমিল্লার শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলেজ কর্তৃপক্ষ বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন বিভাগের উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কলেজের উপাধ্যক্ষ একেএম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। বদলিকৃত শিক্ষকদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বদলিকৃত শিক্ষকদের দায়িত্ব ছিল ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে। উপাধ্যক্ষ একেএম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে না থাকলেও কলেজ প্রশাসনের অংশ ছিলেন। অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অনীহার কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ১৩ জুলাই টানা ভারি বর্ষণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকার ব্যবস্থা করেন, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে।

নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। ঘটনাটি সরকারের উচ্চপর্যায়েও গুরুত্ব পায়। পরে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কলেজের জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির কারণে সরকার ও শিক্ষা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, একটি সরকারি কলেজে একযোগে সাত শিক্ষককে বদলির ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, সেটিও মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে।

একযোগে এতজন শিক্ষককে বদলির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে এখন শিক্ষা অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন