Saturday, July 25, 2026

কুষ্টিয়ায় বাঁশের মাচায় চা বিক্রেতার রক্তাক্ত লাশ, হত্যার সন্দেহে তদন্তে পুলিশ


ছবিঃ সামিরুলের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধর্মদহ এলাকায় একটি বাঁশের মাচা থেকে সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশের একটি মাঠে বাঁশের তৈরি মাচার ওপর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে তেকালা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

নিহত সামিরুল শাহ দৌলতপুর উপজেলার তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত বিশারদ শাহের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বহু বছর আগে তারা পার্শ্ববর্তী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা থেকে এসে তেকালা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

নিহতের বড় ছেলে সাঈদ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি, তার বাবা এবং দুই মামা বড়গাংদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে একই এলাকার মুন্টু নামে এক ব্যক্তি ফোন করে তার বাবাকে দেখা করার কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন এলে সামিরুল শাহ পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ফিরে যেতে বলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান।

এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো খোঁজ মেলেনি। এমনকি যার সঙ্গে তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়, তার কাছেও জানতে চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, ধর্মদহ গ্রামের কাছে রাস্তার পাশের একটি বাঁশের মাচায় সামিরুল শাহের মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সামিরুল শাহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে প্রকাশ্য স্থানে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন