- ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২২ সালে বিএনপির একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান, পরিদর্শক নাহিদ হাসান সুমনসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩২ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হক উজ্জল। গত ২৪ মে তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাকুন্দিয়া থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যৌথভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন।
এ ঘটনায় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে শ্রাবণ নামে এক কর্মীর শরীরে একাধিক ছররা গুলি লাগে। এছাড়া জলিল নামে আরেক নেতাকর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান বলে দাবি করা হয়েছে।
মো. মাজহারুল হক উজ্জল বলেন, সে সময় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হতো। বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন পর হলেও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি এ মামলা করেছেন বলে জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে।