- ০১ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সকাল ১১টার পর বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।
শুনানির সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে দাবি করেন, তিনি একা দায়ী নন এবং তার স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে ‘ডলার’ নামে একজন ব্যক্তি জড়িত এবং অর্থের বিনিময়ে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি ডিএনএ পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ‘ডলার’ নামে যে ব্যক্তির কথা তিনি উল্লেখ করেন, তাকে তিনি মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান চলতি বছরের ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং আদালত চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে কৌশলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং প্রাথমিকভাবে তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত রায় ও তার কার্যকর প্রক্রিয়া উচ্চ আদালতের ধাপসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার্জ গঠনের শুনানি শেষে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে অগ্রসর হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মামলাটি বর্তমানে জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন অনেকেই।