- ১৭ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ কমাতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর থেকে ধাপে ধাপে জলকপাট খুলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট (এমএসএল), যেখানে হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে বাড়তি পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি জলকপাট প্রাথমিকভাবে ৬ ইঞ্চি করে খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এতে কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হবে। একই সময়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি উৎপাদন ইউনিট চালু থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ হিসেবে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
জলকপাট খোলার ফলে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পানির স্তর বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে নদীতীরের বাসিন্দা, জেলে, নৌযান চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ এবং চলমান বৃষ্টিপাত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে স্পিলওয়ে খোলার সময়সূচি কিংবা পানি ছাড়ার পরিমাণেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, যদি উজান থেকে পানির প্রবাহ আরও বেড়ে যায়, তাহলে ধাপে ধাপে জলকপাট আরও বেশি খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আগাম এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষাকালে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।