Friday, July 17, 2026

ইউনিফিলের বিদায়ের পর দক্ষিণ লেবাননে ইইউ বাহিনী চায় জার্মানি


ছবিঃ লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) বছরের শেষে প্রত্যাহার করা হবে (সংগৃহীত । আল জাজিরা / এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউনিফিল) বছরের শেষ দিকে দায়িত্ব শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়ায় সেখানে সম্ভাব্য নিরাপত্তা শূন্যতা ঠেকাতে নতুন উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) একটি বিশেষ মিশন গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যাতে ইউনিফিলের বিদায়ের পর সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।

শুক্রবার জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াডেফুল বলেন, দক্ষিণ লেবাননে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে। তাই ইউনিফিলের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ইইউর নেতৃত্বে একটি কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তার ভাষ্য, এমন একটি বাহিনী মোতায়েন করা গেলে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিবেশ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগও সীমিত করা যাবে।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান রয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রয়োজনেই তারা এসব এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে সীমান্তজুড়ে হিজবুল্লাহও বিভিন্ন সময়ে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি।

১৯৭৮ সালে লেবাননে প্রথম ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর ইউনিফিল মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ দশক ধরে দায়িত্ব পালন করলেও সাম্প্রতিক সংঘাতে বাহিনীটির কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি সেনাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউনিফিলের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়।

গত বছরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইউনিফিল মিশনের সমাপ্তির পথ তৈরি করে। এরপর থেকেই ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য ইইউ মিশন ইউনিফিলের মতো প্রচলিত শান্তিরক্ষী বাহিনী হবে না। বরং এটি লেবাননের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা করবে।

এদিকে লেবানন সরকারও সম্ভাব্য ইউরোপীয় মিশনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জার্মানির এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার বৈঠকে দক্ষিণ লেবাননে পরীক্ষামূলক কয়েকটি অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং এর বিনিময়ে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিফিল-পরবর্তী সময়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ইইউ যদি নতুন কোনো মিশনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তবে তা দক্ষিণ লেবাননের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন