Thursday, July 16, 2026

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২; পাল্টা কৃষ্ণসাগরে রুশ তেলবাহী ট্যাংকারে ইউক্রেনের আঘাত


ছবিঃ ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোররাতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানলে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী। এ হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলার পর আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর স্বিয়াতোশিনস্কি জেলার একটি গুদামঘর এবং দারনিতস্কি জেলার একটি বেসামরিক ভবন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দারনিতসিয়া এলাকার আরেকটি স্থানে পড়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটায়।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের কিয়েভ সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হামলা চালানো হয়। সফরকালে তিনি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি নতুন 'ড্রোন সহযোগিতা চুক্তি' ঘোষণার কথা জানান।

এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিল্প সক্ষমতাকে একত্র করে যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফন ডার লেয়েন বলেন, উভয় পক্ষের সক্ষমতার সমন্বয় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে প্রযুক্তিগত ও শিল্পখাতে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাতভর অভিযানে রাশিয়ার ছয়টি তেলবাহী ট্যাংকার এবং দুটি টাগবোটে আঘাত হানা হয়েছে।

ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি এসব জাহাজে সামরিক জ্বালানিও বহন করা হচ্ছিল। ওই সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।

এর আগে বুধবার ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন। ওই হামলায় কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় শহর ওডেসা এবং রাশিয়া সীমান্তসংলগ্ন সুমি অঞ্চলের শিল্পকারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নতুন এই হামলা ও পাল্টা অভিযানের ফলে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগে অগ্রগতি না হলে উভয় পক্ষের সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এর প্রভাব ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও পড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন