Wednesday, July 15, 2026

ইরানে মার্কিন হামলায় হতাহতের দাবি, পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের


ছবিঃ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল আঘাত কীভাবে সহ্য করছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

শান্তির পথে অগ্রগতির আশাব্যঞ্জক উদ্যোগের এক মাস না পেরোতেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় নতুন দফায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার জবাবে সর্বশেষ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দাবি, প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর পরই ইরানের বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা নৌযানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় দেশটিতে ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তেহরানের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চাবাহার শহরের একটি নৌ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জেলেদের উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে। কুয়েত জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি নৌযানে হামলায় চারজন আহত হয়েছেন।

বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

এর আগে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আর কার্যকর নেই। নতুন অবরোধের পর আইআরজিসি হুমকি দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য হবে, নয়তো কারও জন্যই হবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আটকে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আগ্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, সমঝোতা স্বাক্ষরের পরও ওয়াশিংটন তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি এবং পরিকল্পিতভাবে চুক্তির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক পদক্ষেপ ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট আরও গভীর হতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক তেল বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন