Tuesday, July 14, 2026

নতুন সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, অনিশ্চয়তায় শান্তি আলোচনা: আল জাজিরা


ছবিঃ সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যে চতুর্পাক্ষিক বৈঠক (সংগৃহীত । আল জাজিরা । রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনায় ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করা যুদ্ধবিরতির কাঠামো। কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

গত ১৭ জুন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্যে তৈরি একটি সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছিলেন। কাঠামোটি ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত কমিয়ে স্থায়ী আলোচনার পথ তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সেই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটি এখনো কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনালাপে সংকট সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিকে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অর্জিত শান্তি’ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান। একই সময়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং কৌশলগত বিরোধের কারণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

তেহরানের সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পারস্য উপসাগর গবেষণা বিভাগের পরিচালক জাভাদ হেইরান-নিয়া বলেন, জুনের সমঝোতা স্মারক মূল বিরোধের সমাধান করেনি। বরং এটি সাময়িকভাবে সংঘাত কমানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল।

তার মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছে কেবল একটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার নয়, বরং এটি দেশটির নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ কৌশলের অংশ। তাই এই ইস্যুতে তেহরান বড় ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগের সুযোগ থাকা। ইসলামাবাদভিত্তিক সানোবর ইনস্টিটিউটের প্রধান ক্বামার চিমা বলেন, উভয় পক্ষই প্রয়োজনের সময় পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যা দেশটির কূটনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

তবে সংকট আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মূল মতপার্থক্য এখনো একই জায়গায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ইরান মনে করছে, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশও উত্তেজনার মধ্যে পড়ে গেছে। কাতারেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটির মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক ডানিয়া থাফের বলেন, দুই পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা থেকে সরে যায়নি। তবে পরিস্থিতি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কে কতটা ছাড় দিতে পারে তার ওপর।

তিনি বলেন, সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। ফলে আলোচনার পথ এখনো খোলা থাকলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

এদিকে পাকিস্তান, কাতার ও ওমানসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফেরা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

তথ্যসুত্রঃ আল জাজিরা 

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন