- ১২ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত পর্যালোচনা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আপাতত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্য সব বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ভার্চুয়াল সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় এবং উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম জানান, উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘দফা এক, দাবি এক মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, জলাবদ্ধতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের আগে বাসা থেকে বের হলেও রাস্তায় জলাবদ্ধতা, যানজট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়েন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।