Tuesday, July 14, 2026

ব্যাংককের মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩০


ছবিঃ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অগ্নিকাণ্ডের পর একটি বিয়ার বারের ভেতরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৪ জন এখনো হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বারের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে ব্যাংককের চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাদপ্রাও’ নামের ওই বারে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে এর আগেই ভেতরে থাকা অনেক মানুষ ধোঁয়া ও আগুনে আটকা পড়ে প্রাণ হারান।

ব্যাংকক গভর্নর চাদচার্ট সিটিপুন্ট মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা আরও বেশি আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।”

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বারের ছাদের এয়ার কন্ডিশনারের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই বারে নিরাপত্তা পরিদর্শন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

থাই পুলিশের প্রধান কিত্তারাত পুনপেচ জানান, একতলা ওই বারে চারটি বের হওয়ার পথ ছিল। তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পেছনের দুটি জরুরি দরজা ব্যবহারযোগ্য ছিল কি না।

তিনি জানান, শৌচাগারের কাছাকাছি থাকা একটি দরজার সামনে টেবিল রাখা ছিল, যেখানে বেশ কয়েকজন নিহতের মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্য একটি দরজার সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং সেটির হাতলও ছিল না। ফলে জরুরি মুহূর্তে বের হতে গিয়ে মানুষ বাধার মুখে পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছিল কি না এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মঞ্চে থাকা এক সংগীতশিল্পী তাকে জানিয়েছেন, প্রথমে স্টেজের কাছের সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দ্রুত পুরো বারে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লি ইয়ং জু বলেন, বৈদ্যুতিক ত্রুটি, বিশেষ করে শব্দ ও আলোর সরঞ্জামের সমস্যা অথবা ত্রুটিপূর্ণ তারের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ছাদের উপকরণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয় বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর মঙ্গলবারও অনেক সাবেক গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শোকবার্তা রেখে যান।

এই অগ্নিকাণ্ড আবারও থাইল্যান্ডের বিনোদনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন