Tuesday, July 14, 2026

আইসিই এজেন্টের গুলিতে কলম্বিয়ান যুবকের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক


ছবিঃ ১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে মেইনের বিডেফোর্ডে আইসিই (ICE)-এর একটি অভিযানের সময় গুলিতে নিহত ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান ব্যক্তির স্মরণে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় মানুষ অংশ নিচ্ছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE)-এর এক এজেন্টের গুলিতে ২৬ বছর বয়সী এক কলম্বিয়ান নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান সমালোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি কলম্বিয়ার নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি ছিল তার। কলম্বিয়ার দূতাবাসও জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহতের পরিবারের জন্য কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার মেইনের উপকূলীয় শহর বিডেফোর্ডে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) জানিয়েছে, ICE এজেন্টরা এমন একটি ঠিকানায় নজরদারি চালাচ্ছিলেন, যেখানে বসবাসকারী একজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল।

DHS-এর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই স্থান থেকে বের হওয়া একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন এজেন্টরা। এ সময় গাড়িচালক পালানোর চেষ্টা করলে জননিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন কর্মকর্তা গুলি চালান।

তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মেইনের সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানিয়েছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিন তাকে বলেছেন, গাড়িচালক নাকি গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ICE সদস্যদের আঘাতের চেষ্টা করেছিলেন। তবে ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের শরীরে কোনো বডি ক্যামেরা ছিল না বলেও তিনি জানান।

এদিকে মেইন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, গুলির সময় গাড়িটি এজেন্টের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এফবিআই ও DHS-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল অফিসও তদন্ত শুরু করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ICE-এর অভিবাসন অভিযান আরও কঠোর হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের দাবি, মুখ ঢাকা ফেডারেল এজেন্ট, চিহ্নবিহীন গাড়ি ব্যবহার, কর্মস্থলে অভিযান এবং প্রকাশ্য স্থান থেকে গ্রেপ্তারের মতো পদ্ধতি অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।

এর আগে মিনেসোটায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পরও দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ICE-এর ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে ICE আটক কেন্দ্রে থাকা মানুষের সংখ্যাও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মেইনের এই ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত সাম্প্রতিক মৃত্যুর একটি ঘটনা হিসেবে দেখছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনার সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ বাড়ছে।

এর আগে টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও অভিবাসন অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আরও অভিযোগ, শুধু অভিযান নয়, ICE-এর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বন্দিশিবিরের পরিবেশ, চিকিৎসাসেবা এবং নজরদারি ব্যবস্থার মান নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে।

বিডেফোর্ডের ঘটনায় সোমবার রাতেই স্থানীয়ভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ICE-এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং সংস্থাটির বিলুপ্তির দাবিও জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি যত কঠোর হচ্ছে, ততই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা, মানবাধিকার এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। মেইনের এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

     

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন