Tuesday, July 14, 2026

আইসিসিকে দুর্বল করতে উদ্যোগী ওয়াশিংটন, রুবিওর ঘোষণায় নতুন বিতর্ক


ছবিঃ ৮ জুলাই ২০২৬-এ তুরস্কের আঙ্কারায় মার্কো রুবিও (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আদালটির কার্যক্রম দুর্বল করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করছে এবং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সোমবার প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য, সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা কিংবা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিদেশি বিচারকদের সামনে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, নিজ দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করাও যেন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশকে আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হবে। যেসব দেশ আদালতের কর্তৃত্বকে সমর্থন করেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা গ্রহণ করছে, তাদের ওপর বাড়তি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। প্রয়োজনে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ভিসা সীমাবদ্ধতা কিংবা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা রুবিওর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার দাবি কখনোই করেনি। আদালতের এখতিয়ার কেবল সেইসব রাষ্ট্রে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা রোম সংবিধি অনুমোদন করেছে অথবা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র আদালতের তদন্তে সম্মতি দিয়েছে।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদেশে নিজেদের সামরিক কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক বিচারিক নজরদারির বাইরে রাখতে চায়। তাদের মতে, জাতীয় সার্বভৌমত্বের যুক্তি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইসিসির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত। ২০০২ সালে কার্যক্রম শুরু করা আদালতটি গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো রোম সংবিধির সদস্য নয়।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তদন্তের অংশ হিসেবে আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে আইসিসির কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দেন। এরপর আদালতের তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি করিম খান, তাঁর সহযোগী এবং কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক এবং কয়েকটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রুবিওর সর্বশেষ ঘোষণার বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রথম ধাপে মিত্র দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হতে পারে। ভবিষ্যতে আইসিসির পুরো প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন