- ১৬ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার হলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডে এখনো নিশ্চিত হয়নি আইনে উল্লেখ থাকা গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রেজিস্টারভুক্ত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান থাকলেও, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই আইনি বিধান কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১৮(১) ধারায় রিজেন্ট বোর্ডের গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রেজিস্টারভুক্ত গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই আইনে এসব প্রতিনিধি নির্বাচনের পদ্ধতি এবং তিন বছরের মেয়াদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েটদের নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে আইনগত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
অন্যদিকে, দেশের অনেক স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ বা সংশ্লিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা থাকলেও নোবিপ্রবির মূল আইনে সরাসরি কোনো ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান নেই। ফলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মতামত উপস্থাপনের কোনো আনুষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, রিজেন্ট বোর্ডে গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি থাকলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, সেশনজট, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্র্যাজুয়েট বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আইনে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রতিনিধিত্ব বাস্তবায়িত না হওয়া হতাশাজনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, এখনো রেজিস্টারভুক্ত গ্র্যাজুয়েটদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হয়নি। প্রথমে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, এরপর আইন অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। আর ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই। এটি বাস্তবায়ন করতে হলে আইন সংশোধন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি সংক্রান্ত আইনি বিষয়টি তিনি পর্যালোচনা করবেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়; এর জন্য জাতীয় পর্যায়ে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত রেজিস্টারভুক্ত গ্র্যাজুয়েটদের তালিকা প্রণয়ন করে আইনে নির্ধারিত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগও নিশ্চিত করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।