- ১৭ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বনভোজন শেষে নৌকাযোগে ফেরার পথে বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লেগে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চাকলেশ্বর এলাকার একটি বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রংপুরের বাসিন্দা সাজ্জাত হোসেন এবং শেরপুর জেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের খুজাউরা গ্রামের হাসমত মিয়ার ছেলে জিকুল মিয়া।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন পেশার ২৮ থেকে ৩০ জন একটি দল নৌকাযোগে উপজেলার মহেড়া জমিদারবাড়ি এলাকায় বনভোজনে অংশ নিতে যান। দিনভর ঘোরাঘুরির পর মাগরিবের নামাজ শেষে তারা ফতেপুর স্কুলঘাট থেকে নৌকায় করে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ফেরার পথে নৌকাটি ঝিনাই নদী দিয়ে ভাওয়াল মির্জাপুরের দিকে যাচ্ছিল। থলপাড়া সেতু অতিক্রম করার পর নৌকার মাঝি নদীর মূল পথ ছেড়ে পাশের বিলের দিকে চলে যান। একপর্যায়ে বিলের ওপর দিয়ে টানানো বিদ্যুতের তারের সঙ্গে নৌকার সংস্পর্শ হলে মুহূর্তেই বিকট শব্দ ও বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা দেয়। এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাজ্জাত হোসেন ও জিকুল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রবিন মিয়া, লিপটন মিয়া, রানা আহমেদ ও মেহেদী হাসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নৌকায় থাকা যাত্রী ইয়াছিন, সিয়াম ও আলম জানান, নৌকায় গান বাজছিল এবং সবাই আনন্দঘন পরিবেশে ফিরছিলেন। যাত্রা শুরুর প্রায় আধাঘণ্টা পর হঠাৎ তীব্র বিদ্যুতের ঝলকানি ও চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তারা বুঝতে পারেন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, নিহত সাজ্জাত হোসেন মৌসুমি ভিত্তিতে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জুলাই পর্যন্ত ইটভাটায় কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি বাসের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে জিকুল মিয়া একটি বেসরকারি খাদ্যপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দুজনই কর্মসূত্রে জয়দেবপুর থানার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও পুলিশ নজর রাখছে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদী ও বিল এলাকায় ঝুলে থাকা নিচু বিদ্যুতের তারগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।