Sunday, October 18, 2026

ইনানীর রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী


ছবিঃ নাফিজ তেহামী, লায়লা জাহান নাবিলা ও মেলিতা মেহেজাবিন আলভি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ইনানীর ‘টুপটুপ রেসটো অ্যান্ড রিসোর্টে’ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী। এ ছাড়া ইসরাত জাহান মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফাইজান আহমেদের নামও নিহতদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, পরিবারের নয়জন সদস্য নিয়ে রিসোর্টটিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। নিহতদের মধ্যে নাফিজ, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফাইজান তাঁর ভাগ্নে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, শনিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পান তাঁরা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলছিল। এ ঘটনায় আহত ছয়জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিমও ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম ফেসবুকে এক পোস্টে জানান, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে নাফিজসহ তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

পোস্টে তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নাবিলার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তাঁরা নাবিলার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করেন তাঁরা।

রিসোর্টটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই এলাকায় এমন প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং এত প্রাণহানির পেছনে কী কারণ ছিল এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন