- ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ফরিদপুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ফুচকার দোকানে বসে উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছুরিকাঘাত ও মারধরে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা শিশুপার্ক চত্বরে একটি ফুচকা-চটপটির দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রাম এলাকার সেলিম শেখের ছেলে ঋত্বিক শেখ (২১) ও একই এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে কাকন আহমেদকে (২০)। ঋত্বিকের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং কাকনের মাথায় আঘাত লাগে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসা নেওয়ার পর অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে শিশুপার্কের সামনে পাশাপাশি থাকা দুটি ফুচকা-চটপটির দোকানে কয়েকজন তরুণ আড্ডা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একদলকে জোরে হাসাহাসি করতে দেখে অপর পক্ষ আপত্তি জানায়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
কথার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঋত্বিকের পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। সংঘর্ষে দুই পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা ঋত্বিক ও কাকনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে শুক্রবার সকালে তারা চিকিৎসকদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তমাল কৃষ্ণ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। সকালে তারা ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন।
ঘটনার বিষয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ফুচকা খাওয়ার সময় উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্ক হয়। পরে সেটি মারামারিতে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।