Friday, July 31, 2026

এফএলএন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ, বেড়ার ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ


ছবিঃ পাবনায় একসঙ্গে ৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। পাবনা

পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারায় তাদের এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট শিখন লক্ষ্য বাস্তবায়নের নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠে দক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ—গণিতের চারটি মৌলিক নিয়মে পারদর্শিতা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া ও তদারকি চালানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শিক্ষকরা ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে শিক্ষা অফিস।

এ কারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষককে লিখিতভাবে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শোকজ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর ও সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিদ্যালয়গুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব এবং অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তারা।

শিক্ষকদের দাবি, এসব বাস্তব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন।

বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে মোট কতজন শিক্ষক নোটিশের আওতায় পড়েছেন, তা অফিসের নথি পর্যালোচনা ছাড়া নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ভেদে শিক্ষকসংখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। কোনো বিদ্যালয়ে তিনজন, কোনো বিদ্যালয়ে চারজন এবং কিছু বিদ্যালয়ে এর চেয়েও বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন