- ৩০ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নেত্রকোণা
নেত্রকোণার পূর্বধলায় বিয়ের দিন বরের বাড়িতে এক তরুণীর উপস্থিতি এবং নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীরা কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর, বেলা ৩টার দিকে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই তরুণী আসেন। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে হেলাল মিয়ার প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকায়। সঙ্গে থাকা অপর তরুণী তার মামাতো বোন বলে জানা গেছে।
ওই তরুণীর দাবি, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার প্রায় ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তারা একসঙ্গে থাকতেন বলেও তিনি দাবি করেন। গত ২৮ জুলাই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে হেলাল মিয়া মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় সেই বিয়ে হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তরুণী আরও জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং আগের সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। পরে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিয়ের দিন বরের বাড়িতে ওই তরুণীর উপস্থিতি ও তার দাবির বিষয়টি কনেপক্ষের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে নির্ধারিত বিয়ে আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বিয়ের আয়োজন বাবদ কনেপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা দেন বরপক্ষ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরযাত্রীরা বাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া গভীরভাবে ভেঙে পড়েন। ছেলে বিয়ে করতে যাওয়ার পর বাড়িতে এক তরুণীর এসে নিজেকে তার প্রেমিকা দাবি করা এবং পরে বিয়ে পণ্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, রাত ১১টার দিকে সুরুজ মিয়া বাড়ির পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তার স্ত্রী হেলেনা তাকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা দুই তরুণীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।