Thursday, July 30, 2026

মিয়ানমারে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ, ৮ কর্মীর ৩৭ বছর কারাদণ্ড


ছবিঃ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের একটি প্রচারণামূলক পোস্টার। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /লরেন ডিচিক্কা/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

মিয়ানমারে সামরিক সরকারের আয়োজিত নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ করায় আট রাজনৈতিক কর্মীকে সর্বোচ্চ ৩৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দেশটির পরিচিত আন্দোলনকর্মী হেত মিয়াত অংও রয়েছেন।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের দুটি আদালত পৃথক মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এ রায় দেন। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সামরিক সরকারবিরোধী সংগঠন অ্যান্টি-জান্তা ফোর্সেস কো-অর্ডিনেশন কমিটি–মান্দালে।

সংগঠনটির মুখপাত্র মে হিন জানান, নির্বাচনী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আট কর্মীকে মোট ৩৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত আরও একজন কর্মীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মান্দালে শহরের কেন্দ্রস্থলে আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ওই কর্মীরা। বিক্ষোভে তারা জনগণকে সামরিক সরকারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগব্যবস্থা প্রত্যাখ্যানের দাবিও তোলা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক হওয়া রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিও জানান। ওই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় নেত্রী অং সান সু চিসহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভের এক দিন পর, ৪ ডিসেম্বর ওই নয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

মে হিনের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করে সামরিক সরকারের ক্ষমতা আরও সুসংহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা কোনো সরকার প্রকৃত ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।’

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না। কারণ, উচ্চ আদালতে সাজা বাতিল বা কমার সম্ভাবনা নিয়ে তাদের আস্থা নেই।

তবে সাজা ঘোষণার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারে একটি নতুন নির্বাচনী আইন চালু করা হয়। ওই আইনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনো অংশ নষ্ট বা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া, সংগঠিত হওয়া, উসকানি দেওয়া, বিক্ষোভ করা কিংবা লিফলেট বিতরণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আইনটিতে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। নির্বাচনের আগে নতুন এই আইনে দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকা এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগের কারণে নির্বাচনটি শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে ছিল।

সরকারবিরোধী বিভিন্ন পক্ষ ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের দাবি, বড় বিরোধী দলগুলোর অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। সর্বশেষ এই দীর্ঘ কারাদণ্ডের ঘটনায় মিয়ানমারে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন