- ৩০ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার ভোররাতের এ হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত আটজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার প্রভাব পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ পর্যন্ত পৌঁছালে সীমান্তবর্তী আকাশসীমার নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে প্রতিবেশী পোল্যান্ড।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক দিন আগেই রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার সতর্কতার পরপরই দেশটির বিভিন্ন শহরে একযোগে হামলা চালানো হলো।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টার কিছু পর রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, কিয়েভে হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন।
ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পোলতাভা অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন আরও একজন। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক প্রশাসন হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরে রুশ হামলায় নিহতদের মধ্যে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। শহরটি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্মস্থান।
ক্রিভি রিহের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সান্দার ভিলকুল জানান, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ছোড়া একটি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।
লভিভে হামলার পর সীমান্তবর্তী আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করে পোল্যান্ড। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আকাশসীমা সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভ, লভিভ ও ডিনিপ্রোপেত্রোভস্কসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় ওডেসা শহরের আশপাশে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনের অভিযোগে তিনটি কার্গো জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রুশ হামলাকে ‘সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ দায়িত্ব শুধু ইউক্রেন কিংবা কোনো একটি দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে বড় ধরনের রুশ হামলা আসন্ন। দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্রদের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পথে জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশটিতে বর্তমানে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে রুশ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিম রাশিয়ার পেনজা শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ওই হামলায় রাশিয়ার অন্যতম বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লাগে।
পেনজার গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলায় একজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর এক দিন আগেও মধ্য রাশিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি স্থাপনা খালি করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অভিযোগ, ওয়াইল্ডবেরিজ এমন কিছু পণ্যের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, যা ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে সহায়তা করে। তবে রাশিয়া এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই দুই পক্ষের দূরপাল্লার হামলা বেড়েছে। সর্বশেষ এই হামলা পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।