- ৩০ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা দ্রুত মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে জারি করা হবে সরকারি প্রজ্ঞাপন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে এবং প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না।
বেতন কাঠামো নিয়ে ঘন ঘন মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে আমির খসরু বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। তবে সরকার এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ে বিস্তারিত জানাবে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে আইএমএফ কোনো আপত্তি জানায়নি। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র আরও জানায়, সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এরই মধ্যে তাদের সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে।
কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে রাখা হয়েছে।
এদিকে, গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকায় সফর করে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল। সফরকালে তারা অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অর্থের উৎস সম্পর্কেও জানতে চায় প্রতিনিধি দলটি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করে আইএমএফ। সাত কিস্তিতে এই অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তি ছাড় হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।